সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল হলে দখল পুনরুদ্ধার(Recovery of possession of immovable property)

 

স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল হলে দখল পুনরুদ্ধার

"Suit for recovery of possession of immovable property"

জমি বেদখল হলে কী করণীয়?; দখল স্বত্ব আইন কী?; স্বত্ব প্রচার মামলা কী?; সত্য ঘোষণা মামলা কি?; What is the procedure required for recovery of possession of immovable property?; What is the 7 days notice of owner's intention to recover possession?; What is the legal limitation for recovering possession of immovable property?; What is an action for recovery of possession?; Recovery of possession of property; Section 8 of specific Relief Act 1877; Section 9 of Specific Relief Act, 1877; Difference between section 8 and 9 of Specific Relief Act; Sr Act bd; Specific Relief Act, 1877 PDF Download; Section 56 of specific relief Act; Section 18 of Specific Relief Act;


প্রশ্ন: কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি হতে বেদখল হলে, উহা পুনরুদ্ধারকল্পে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এ কী কী বিধান আছে? সংশ্লিষ্ট বিধান আলোচনা করুন।

 স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল হওয়া ব্যক্তির প্রতিকার নির্ভর করে তিনি কী ভিত্তিতে দখল ফিরে পেতে চান তার ওপর। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮ ধারা অনুযায়ী যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার আইনগত অধিকারী, তিনি দেওয়ানি কার্যবিধির নির্ধারিত পদ্ধতিতে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারেন। অন্যদিকে ৯ ধারা এমন ব্যক্তিকে দ্রুত প্রতিকার দেয়, যিনি সম্মতি ছাড়া এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সম্পত্তি থেকে বেদখল হয়েছেন। ৯ ধারার মামলায় মালিকানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা মুখ্য নয়; মূল প্রশ্ন হলো পূর্বদখল ও বেআইনি বেদখল।

১. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা: স্বত্ব বা আইনগত অধিকারভিত্তিক দখল পুনরুদ্ধার

৮ ধারায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে সেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এই ধারার অধীনে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সম্পত্তির দখল পাওয়ার আইনগত অধিকারী। সেই অধিকার মালিকানা থেকে আসতে পারে; আবার বৈধ ইজারা বা অন্য কোনো স্বীকৃত আইনগত অধিকারের ভিত্তিতেও দখলের অধিকার সৃষ্টি হতে পারে।

এ ধরনের মামলায় সাধারণত বাদীকে সম্পত্তির ওপর নিজের স্বত্ব বা দখল পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্বত্ব ঘোষণার প্রতিকারও চাওয়া যেতে পারে। তবে স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা সব মামলায় যান্ত্রিকভাবে যোগ করতে হবে—এমন নয়; বাদীর দাবি, প্রতিপক্ষের অস্বীকার এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক প্রতিকারের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার শর্ত অনুযায়ী, বাদী যখন ঘোষণার পাশাপাশি আরও প্রতিকার চাইতে সক্ষম, তখন কেবল ঘোষণা চেয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রতিকার বাদ দিলে আদালত ঘোষণা দিতে অস্বীকার করতে পারেন।

প্রমাণের ভার: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১১০ ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তি কোনো সম্পত্তির দখলে আছেন বলে প্রমাণিত হলে, তিনি মালিক নন—এ কথা প্রমাণের ভার সাধারণত সেই ব্যক্তির ওপর পড়ে, যিনি তাঁর মালিকানা অস্বীকার করেন। কিন্তু এই ধারা দিয়ে বাদীকে তাঁর দাবির প্রয়োজনীয় ভিত্তি প্রমাণ করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় না। ৮ ধারার মামলায় বাদীকে নিজের দখল পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তামাদি: তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের ১৪২ অনুচ্ছেদ পূর্বদখল ও পরবর্তী বেদখলের ভিত্তিতে দখল পুনরুদ্ধারের নির্দিষ্ট ধরনের মামলায় ১২ বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে। তবে প্রতিটি স্বত্বভিত্তিক দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়; মামলার প্রকৃতি ও প্রার্থিত প্রতিকারের ভিত্তিতে প্রযোজ্য অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করতে হবে।

মামলার মূল্যায়ন ও কোর্ট ফি: ৮ ধারার মামলার মূল্যায়ন এবং কোর্ট ফি নির্ধারিত হবে প্রযোজ্য মূল্যায়ন ও কোর্ট-ফি আইন এবং মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী। তাই সব ক্ষেত্রে একইভাবে অ্যাড ভ্যালোরেম কোর্ট ফি প্রযোজ্য—এমন সাধারণ বক্তব্য দেওয়া নিরাপদ নয়।

২. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা: বেআইনিভাবে বেদখল হওয়া ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত প্রতিকার

৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে তাঁর সম্মতি ছাড়া এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল করা হলে, তিনি বা তাঁর মাধ্যমে দাবি করা ব্যক্তি মামলা করে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এই প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে, এমনকি বিবাদী নিজের স্বত্বের দাবি তুললেও। ধারাটির উদ্দেশ্য হলো, কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে অন্যের দখল কেড়ে নিতে না পারে।

৯ ধারার মামলায় বাদীকে সাধারণত তিনটি বিষয় প্রমাণ করতে হয়: (ক) বেদখলের আগে তিনি সম্পত্তির দখলে ছিলেন; (খ) তাঁকে তাঁর সম্মতি ছাড়া এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে বেদখল করা হয়েছে; এবং (গ) বেদখলের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় বাদীর মালিকানা প্রমাণ করা আবশ্যক নয়। তবে পূর্বদখল ও বেদখলের ঘটনা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে হবে।

ধারা ৯-এর স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা হলো, সরকারের বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলা করা যায় না। এ ধারার অধীনে দায়ের করা মামলায় প্রদত্ত আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না এবং রিভিউও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ৯ ধারার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করে যে, এই ধারার মামলা করা কোনো ব্যক্তির স্বত্ব প্রতিষ্ঠা ও দখল পুনরুদ্ধারের জন্য পৃথক মামলা করার অধিকার নষ্ট করে না।

তামাদি: ৯ ধারার মামলা বেদখলের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলে ৯ ধারার সংক্ষিপ্ত প্রতিকার সাধারণত পাওয়া যায় না; তবে যথাযথ স্বত্ব বা অন্য আইনগত অধিকারের ভিত্তিতে ৮ ধারাসহ প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করার সুযোগ থাকতে পারে।

মামলার মূল্যায়ন ও কোর্ট ফি: ৯ ধারার মামলার কোর্ট ফি সম্পর্কে “অর্ধেক অ্যাড ভ্যালোরেম” বলে সর্বক্ষেত্রে একক নিয়ম ধরে নেওয়া উচিত নয়। মামলার মূল্যায়ন ও কোর্ট ফি নির্ধারণে প্রযোজ্য কোর্ট-ফি আইন, সংশ্লিষ্ট তফসিল এবং মামলার প্রকৃতি দেখতে হবে।

৩. ৮ ও ৯ ধারার মূল পার্থক্য

৮ ধারার মামলা অধিকার বা স্বত্বের ভিত্তিতে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য; এখানে বাদীকে দখল পাওয়ার আইনগত অধিকার প্রমাণ করতে হয়। ৯ ধারার মামলা পূর্বদখল ও বেআইনি বেদখলের ভিত্তিতে দ্রুত প্রতিকার; এখানে মালিকানা নির্ধারণ মুখ্য নয়, বরং সম্মতি ছাড়া ও আইনগত প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে বেদখল হয়েছে কি না তা গুরুত্বপূর্ণ। ৯ ধারায় ছয় মাসের কঠোর সময়সীমা আছে এবং ওই ধারার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ চলে না।

৪. প্রাসঙ্গিক বিচারিক নজির

ক. Civil Appeal No. 96 of 2012, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট: রায়ে আদালত ব্যাখ্যা করেন যে, ৯ ধারার মামলা করতে হলে বাদীকে মালিকানা প্রমাণ করতে হয় না; বেদখলের আগে দখল, সম্মতি ছাড়া বেআইনি বেদখল এবং ছয় মাসের মধ্যে মামলা দায়েরের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিকারের উদ্দেশ্য হলো বেআইনি উপায়ে দখলচ্যুতি ঠেকানো এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে দখল থেকে উচ্ছেদ না করা।

খ. C.R. No. 1476 of 2018, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ: রায়ে ৯ ধারার মামলায় তিনটি মূল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে—বেদখলের আগে বাদীর দখল, বিবাদীর দ্বারা জোরপূর্বক/বেআইনি বেদখল এবং বেদখলের ছয় মাসের মধ্যে মামলা দায়ের।

গ. C.R. No. 2796 of 2023, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ: রায়ে আদালত উল্লেখ করেন যে, ৮ বা ৯ ধারার প্রাসঙ্গিকতায় বেদখলের প্রকৃত তারিখ গুরুত্বপূর্ণ; কেবল পরে দখল ফেরত চাওয়ার তারিখ দিয়ে সময় গণনা করা যায় না। ৯ ধারার মামলা গ্রহণযোগ্য করতে সম্মতি ছাড়া বেদখলের দাবিও গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

সুতরাং, স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল হলে প্রতিকারের জন্য প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে—বাদী স্বত্ব বা অন্য আইনগত অধিকারের ভিত্তিতে দখল চাইছেন, নাকি পূর্বদখল থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিকার চাইছেন। প্রথম ক্ষেত্রে ৮ ধারা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৯ ধারা প্রাসঙ্গিক। ৯ ধারার ক্ষেত্রে ছয় মাসের সময়সীমা, সরকারের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিধান এবং আপিল/রিভিউয়ের নিষেধাজ্ঞা বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে।

 সূত্র

  • ১. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭, ধারা ৮, ৯ ও ৪২।
  • ২. তামাদি আইন, ১৯০৮, প্রথম তফসিলের ১৪২ অনুচ্ছেদ;
  • ৩. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা ১১০।
  • ৪. Bangladesh Laws (BDLaws), The Specific Relief Act, 1877, sections 8–9.
  • ৫. Supreme Court of Bangladesh, Civil Appeal No. 96 of 2012; C.R. No. 1476 of 2018; C.R. No. 2796 of 2023.

Post a Comment

0 Comments