সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও মৃত্যুদণ্ডে বিচারিক আদালতের করণীয় (Evidence Collection and Death Sentences)

 

১. প্রধান শিরোনাম (Main Title)  • ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও মৃত্যুদণ্ডে বিচারিক আদালতের করণীয় 	• English: Duties of the Trial Court Regarding Evidence Collection and Death Sentences in Criminal Cases. 	• Alternative: Procedure of the Trial Court Concerning Recording of Evidence and Capital Punishment in Criminal Matters.  ২. গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিভাষা (Key Legal Terms)  • ফৌজদারি মামলা: Criminal Case / Criminal Matter • বিচারিক আদালত: Trial Court / Court of Session (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • সাক্ষ্য গ্রহণ: Recording of Evidence / Examination of Witnesses • মৃত্যুদণ্ড: Death Sentence / Capital Punishment • করণীয়/দায়িত্ব: Duties / Procedure / Obligations  ৩. সাক্ষ্য গ্রহণ সংক্রান্ত করণীয় (Duties Regarding Recording of Evidence)  ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুযায়ী সাক্ষ্য গ্রহণের প্রধান ধাপগুলোর ইংরেজি রূপ: • আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ: Evidence to be taken in the presence of the accused. • সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা: Recording the examination-in-chief of witnesses. • জেরা ও পুনঃজেরা: Cross-examination and re-examination. • সাক্ষ্যের ভাষা ও বিবরণ: Language and record of the evidence. • সাক্ষীকে পড়ে শোনানো: Evidence to be read over to the witness.  ৪. মৃত্যুদণ্ডে বিচারিক আদালতের করণীয় (Duties Regarding Death Sentence)  বিচারিক আদালত যখন কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন, তখন তাদের কিছু নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়: • মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা: Pronouncement of the judgment of death sentence. • হাইকোর্ট বিভাগে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ (ডেথ রেফারেন্স): Submission of the proceedings to the High Court Division for confirmation (Death Reference under Section 374 of CrPC). • মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরোয়ানা জারি: Issuing a warrant for the execution of a death sentence. • আসামিকে আপিলের সুযোগ ও সময় সম্পর্কে অবহিত করা: Informing the convict about the limitation period for filing an appeal. • কারাগারে আসামিকে স্থানান্তরের আদেশ: Committing the convict to jail custody under a warrant.
ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও মৃত্যুদণ্ডে বিচারিক আদালতের করণীয়


প্রশ্ন: ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পর্কিত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর বিধানাবলি লিখুন। বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে উক্ত আদালত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

(Duties of the Trial Court Regarding Evidence Collection and Death Sentences in Criminal Cases.)

উত্তর:

ক) সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পর্কিত বিধান

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫ নং অধ্যায়ে (ধারা ৩৫৩ থেকে ৩৬৫) বিচার ও অনুসন্ধানে সাক্ষ্য গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি বলা আছে। এর বাইরেও কয়েকটি বিধান সাক্ষ্য গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা, জেরা ও সাক্ষীর জবানবন্দির সাধারণ নিয়ম অবশ্য সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এ আছে। যাহোক, সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পর্কিত বিধানগুলো হচ্ছে-

  • আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্য (ধারা ৩৫৩):  ২০, ২২ ও ২৩ অধ্যায়ের অধীনে সব সাক্ষ্য আসামির উপস্থিতিতে নিতে হবে। আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা রেহাই পেলে তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে নিতে হবে। আসামি যেন সাক্ষ্য শোনার ও জেরা করার সুযোগ পায়, এটাই এর উদ্দেশ্য।
  • সাক্ষ্য লেখার পদ্ধতি (ধারা ৩৫৫ থেকে ৩৫৭): সমন মামলায় সাক্ষ্যের সারাংশ (memorandum of the substance) লিখলেই চলে (ধারা ৩৫৫)। ওয়ারেন্ট মামলা ও দায়রা বিচারে প্রতিটি সাক্ষীর সাক্ষ্য বিস্তারিতভাবে, সাধারণত আদালতের ভাষায়, লিখতে হয় (ধারা ৩৫৬ ও ৩৫৭)। সাক্ষ্য ইংরেজিতে হলে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ নিজ হাতে ইংরেজিতে লিখতে পারেন। তখন আসামি ইংরেজি না জানলে আদালতের ভাষায় প্রমাণিত অনুবাদ রেকর্ডের অংশ হয়। অন্য ভাষার ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা আছে (ধারা ৩৫৬(২) ও (২ক))।
  • পড়ে শোনানো ও সংশোধন (ধারা ৩৬০): প্রতিটি সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হলে তা আসামি বা তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে সাক্ষীকে পড়ে শোনাতে হয় এবং প্রয়োজনে সংশোধন করতে হয়। সাক্ষী কোনো অংশের শুদ্ধতা অস্বীকার করলে বিচারক সংশোধনের বদলে আপত্তির স্মারকলিপি লিখে মন্তব্য যোগ করতে পারেন। সাক্ষ্য সাক্ষীর অজানা ভাষায় লেখা হলে তাকে তার বোঝা ভাষায় ব্যাখ্যা করে শোনাতে হয়।
  • আসামিকে প্রশ্ন (ধারা ৩৪২): আসামিকে সাক্ষ্যে আসা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার সুযোগ দিতে আদালত যেকোনো পর্যায়ে প্রশ্ন করতে পারে। প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর আসামির সাফাই আহ্বানের আগে আসামিকে সাধারণভাবে মামলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা বাধ্যতামূলক। আসামিকে শপথ করানো যায় না। প্রশ্নের জবাব না দিলে বা মিথ্যা জবাব দিলে আসামি শাস্তির যোগ্য হয় না, তবে আদালত উপযুক্ত অনুমান করতে পারে। জবাব আসামির পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
  • আসামি নিজে সাফাইয়ের সাক্ষী (ধারা ৩৪০(৩)): আসামি নিজের লিখিত অনুরোধে শপথ নিয়ে সাফাইয়ের সাক্ষী হতে পারে। সে সাক্ষ্য না দিলে তা নিয়ে কোনো পক্ষ বা আদালত মন্তব্য করতে পারে না, এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অনুমানও করা যায় না। ধারা ৩৪৩ অনুযায়ী আসামিকে কোনো কথা বলতে বা না বলতে প্ররোচনা, প্রতিশ্রুতি বা ভয় দেখানো যায় না।
  • তদন্তকালীন বক্তব্য (ধারা ১৬১ ও ১৬২): পুলিশ তদন্তে সাক্ষীর মৌখিক জবানবন্দি নিতে পারে। তা লিখলে সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়া যাবে না। এই বক্তব্য বিচারে সাধারণত কাজে লাগানো যায় না। ব্যতিক্রম হলো, প্রসিকিউশনের সাক্ষীকে আসামির অনুরোধে সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৫ অনুযায়ী বিরোধ দেখানো। তখন পুনঃজেরায় ব্যাখ্যার জন্যও ওই অংশ ব্যবহার করা যায়।
  • স্বীকারোক্তি (ধারা ১৬৪ ও ৩৬৪): কোনো ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার আগে আসামিকে বুঝিয়ে বলবেন যে সে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নয় এবং দিলে তা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হতে পারে। প্রশ্ন করে স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বাস না হলে তিনি তা রেকর্ড করবেন না। রেকর্ডের শেষে নির্দিষ্ট ভাষায় একটি স্মারকলিপি লিখতে হবে। রেকর্ড ও স্বাক্ষরের পদ্ধতি ধারা ৩৬৪-এ। বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ে State v. Babul Miah, 63 DLR (AD) 10-কে ধারা ১৬৪(৩)-এর বাধ্যতামূলক বিধান সম্পর্কিত নজির হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
  • কমিশনের মাধ্যমে সাক্ষ্য (ধারা ৫০৩ থেকে ৫০৫): সাক্ষী আদালতে আসতে না পারলে কমিশনের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া যায়। পক্ষগণ লিখিত প্রশ্নমালা পাঠাতে পারে এবং কমিশনের সামনে সাক্ষীকে জেরা ও পুনঃজেরাও করতে পারে (ধারা ৫০৫)।
  • অভিযোগ পরিবর্তনে সাক্ষী পুনরায় ডাকা (ধারা ২৩১): বিচার শুরুর পর অভিযোগ বদলালে বা যোগ হলে প্রসিকিউশন ও আসামি আগে পরীক্ষিত সাক্ষীকে আবার ডেকে পরীক্ষা করতে এবং আরও সাক্ষী ডাকতে পারে।
  • ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন (ধারা ৫০৯এ): শর্ত পূরণ না হলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। State v. Mokbul Hossain, 37 DLR 157 মামলাকে একটি হাইকোর্ট রায়ে এ বিষয়ে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

খ) বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে করণীয়

বিচারিক আদালত (যেমন- দায়রা জজ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল) যদি কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড (Death Sentence) প্রদান করেন, তবে CrPC-এর ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী ওই দণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা যায় না। আদালতকে কতগুল পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হয়:

  • রায় লেখা ও ঘোষণা (ধারা ৩৬৬): রায় আসামি বা তার আইনজীবীর বোঝা ভাষায় ঘোষণা করতে হয়। কোনো পক্ষ অনুরোধ করলে পুরো রায় পড়ে শোনাতে হয়। আসামি হেফাজতে থাকলে তাকে হাজির করতে হয়। রায় ঘোষণায় কোনো পক্ষের অনুপস্থিতি রায়কে অবৈধ করে না। মৃত্যুদণ্ডের রায়ে মৃত্যুদণ্ড কেন দেওয়া হলো, তার কারণ লিখতে হবে। 
  • দণ্ডাদেশের ভাষা ও আপিলের সময় জানানো: আমার জানা মতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশে আসামিকে ঘাড়ে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ থাকে, আর দায়রা জজ আসামিকে আপিলের সময়সীমা জানান।  (ধারা ৩৬৮ ও ৩৮১ সংশ্লিষ্ট)। 
  • হাইকোর্ট বিভাগে কার্যধারা পাঠানো (ধারা ৩৭৪): দায়রা আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগ নিশ্চিত না করলে দণ্ড কার্যকর হয় না। এটি ডেথ রেফারেন্স (Death Reference) নামে পরিচিত। বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক উক্ত দণ্ড অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব নয়।
  • হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্সের নিষ্পত্তি: হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী আরও অনুসন্ধান বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে। ধারা ৩৭৬ অনুযায়ী দণ্ড বহাল রাখতে, অন্য আইনসম্মত দণ্ড দিতে অথবা দোষী সাব্যস্ত করা বাতিল করে আসামিকে অব্যাহতি বা অন্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে। বাংলাদেশে ডেথ রেফারেন্স সাধারণত আসামির আপিল ও জেল আপিলের সঙ্গে একত্রে শোনা হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট Bhupendra Singh v. State of Punjab, AIR 1968 SC 1438 মামলায় বলেছে, ধারা ৩৭৫ ও ৩৭৬ অনুযায়ী হাইকোর্টকে নিজে পুরো রেকর্ড পরীক্ষা করতে হয়। 
  • পরবর্তী ধাপ: হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড নিশ্চিত করলে আসামি আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার (prerogative of mercy)আবেদনও করা যায়।রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মাফ করতে (pardon), মুলতবি রাখতে (reprieve, respite) এবং হ্রাস, স্থগিত বা রদ করতে (commute, suspend, remit) পারেন। মৃত্যুদণ্ডে সাধারণত যে প্রতিকার চাওয়া হয়, তা হলো দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা।

উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী যদি গর্ভবতী হন, তবে হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে পারেন অথবা তা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন।

গ) মৃত্যুদণ্ড ও বিচারিক বিচক্ষণতা(Judicial Discretion)

বাংলাদেশে খুনের শাস্তি দণ্ডবিধির ধারা ৩০২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সঙ্গে জরিমানা। অর্থাৎ আইন আদালতকে দুটির মধ্যে বেছে নেওয়ার বিচক্ষণতা (discretion) দিয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে থাকা কেউ খুন করলে মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক ছিল (ধারা ৩০৩), এবং হাইকোর্ট বিভাগ এ ধরনের বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ডের বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। 

সুপ্রিম কোর্টের বুলেটিনে (20 SCOB (AD) 8) প্রকাশিত আপিল বিভাগের একটি রায়ের সারাংশে দেখেছি, ধারা ৩০২-এ দুই ধরনের শাস্তির বিচক্ষণতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে এবং শাস্তি নির্ধারণে দুই ধরনের বিষয় বিবেচনা করা হয়: গুরুতরতা বাড়ায় এমন বিষয় (aggravating factors) এবং লঘুতার পক্ষের বিষয় (mitigating factors)। আপিল বিভাগের Nalu v. State, 1 ALR (AD) (2012) 222 মামলায় লঘুতার কারণ হিসেবে আসামির আগের অপরাধের রেকর্ডের কথা এসেছে। আসামির বয়সসহ আরও কিছু পরিস্থিতিও লঘুতার কারণ হিসেবে গণ্য হয়। 

ভারতে Bachan Singh v. State of Punjab, (1980) 2 SCC 684 মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডকে ব্যতিক্রমী, বিরলতম (rarest of rare) ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করেছে। পরে Machhi Singh v. State of Punjab, (1983) 3 SCC 470 মামলায় বিরলতম ক্ষেত্র চেনার কিছু মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 


 Sustained provocation

Sustained provocation বা  cumulative প্ররোচনা বলতে বোঝায় দীর্ঘ সময় ধরে জমে ওঠা অপমান, নির্যাতন বা উসকানি, যার শেষ ঘটনায় আসামি আত্মসংযম হারিয়ে ফেলে। এটি মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নের সঙ্গে দুইভাবে সম্পর্কিত।

প্রথমত, দোষী সাব্যস্ত করার ধাপে। দণ্ডবিধির ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ১ অনুযায়ী আসামি গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনায় আত্মসংযম হারিয়ে প্ররোচনাদাতার মৃত্যু ঘটালে এটি খুন নয়, খুন নয় এমন অপরাধমূলক নরহত্যা (culpable homicide not amounting to murder) হয়। তখন ধারা ৩০২-এর মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্ন ওঠে না। বাংলাদেশে ব্যতিক্রম ১ ও ৪ নিয়ে আপিল বিভাগের আলোচনা পাওয়া যায় Abdus Samad v. State, (2021) 73 DLR (AD) 128 মামলায়। সেখানে State v. Tayeb Ali, 40 DLR (AD) 6 এবং Khalil Peada v. State, 70 DLR (AD) 126 উদ্ধৃত হয়েছে। আমি শুধু এই উদ্ধৃতিগুলোর তালিকা দেখেছি, মূল রায়ের সিদ্ধান্ত পড়িনি।

দ্বিতীয়ত, ধারা ৩০২ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি নির্ধারণের ধাপে। সেখানে দীর্ঘ নির্যাতন বা প্ররোচনার ইতিহাস লঘুতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন হতে পারে।

সমস্যা হলো ব্যতিক্রম ১-এ "আকস্মিক" শব্দটি। দীর্ঘ সময় ধরে জমে ওঠা প্ররোচনা অনেক সময় এই শর্ত পূরণ করে না। ভারতের K. M. Nanavati v. State of Maharashtra, AIR 1962 SC 605 মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, প্ররোচনা গুরুতর ও আকস্মিক হতে হবে এবং আত্মসংযম ফিরে পাওয়ার মতো সময় (cooling time) পার হয়ে গেলে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হয় না। তবে একটি সূত্রে দেখেছি, ভারতের একটি আদালত এই রায়ের ভিত্তিতে ঘটনাপরম্পরার শেষ কাজটিকে প্ররোচনার অংশ ধরেছে। এটি আমি যাচাই করিনি।

ইংল্যান্ডে R v. Duffy [1949] 1 All ER 932 মামলায় প্ররোচনাকে আকস্মিক ও সাময়িক আত্মসংযম হারানো হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। পরে R v. Ahluwalia [1992] 4 All ER 889 মামলায় দীর্ঘ নির্যাতনের শিকার স্ত্রীর ক্ষেত্রে cumulative provocation প্রসঙ্গ আসে। R v. Thornton (No 2) [1996] 2 All ER 1023 মামলায় একই ধরনের প্রশ্ন আলোচিত হয়। ২০০৯ সালের Coroners and Justice Act প্ররোচনার বিধান বদলে "loss of control"-এর প্রতিরক্ষা এনেছে। এগুলো বাংলাদেশে প্রেরণামূলক। বাংলাদেশের কোনো আইনে sustained provocation নামে আলাদা বিধান আছে বলে আমি জানি না।

উপসংহার: সুতরাং, ফৌজদারি কার্যবিধি সাক্ষ্য গ্রহণে আসামির উপস্থিতি, সাক্ষ্য লেখার নিয়ম ও আসামির পরীক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে। মৃত্যুদণ্ড দিলে বিচারিক আদালতের কাজ রায়ে কারণ লেখা এবং ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে নিশ্চিতকরণের জন্য পাঠানো। মৃত্যুদণ্ড না যাবজ্জীবন, এই বাছাইয়ে আদালতের বিচক্ষণতা আছে, কিন্তু তা প্রয়োগ হয় গুরুতরতা ও লঘুতার কারণ বিচার করে। প্ররোচনার ইতিহাস এই বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments