সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

কায়েম মোকাম (Kaem Mokam বা Qayem Moqam) substitution

 

কায়েম মোকাম (Kaem Mokam)  বা substitution

কায়েম মোকাম (Kaem Mokam/ Qayem Moqam এর ইংরেজি substitution) একটি আরবি-ফারসি শব্দ মিলিয়ে গঠিত একটি আইনি পরিভাষা (legal expression) যার অর্থ 'কারো স্থানে অন্যকে প্রতিষ্ঠিত করা বা তার অবস্থান গ্রহণ করা'। এটি দেওয়ানি কার্যবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো চলমান দেওয়ানি মোকদ্দমায় (pending civil suit) কোনো পক্ষ (party) মৃত্যুবরণ করলে তার আইনগত উত্তরাধিকারী বা legal representatives–দেরকে মামলার পক্ষভুক্ত করা হয়, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া “death of a party”-এর কারণে ব্যাহত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকতে পারে। এই বিষয়ে মূল বিধান পাওয়া যায় Civil Procedure Code, 1908 (CPC)–এর Order XXII–এ। বিশেষভাবে, Order XXII Rule 3 অনুযায়ী, যদি একাধিক বাদীর মধ্যে একজন মারা যান এবং “right to sue survives”, তাহলে আদালত উপযুক্ত আবেদনের ভিত্তিতে মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধিদেরকে পক্ষভুক্ত করবে এবং মামলা চালিয়ে যাবে। একইভাবে, Order XXII Rule 4–এ বিবাদীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার legal representatives–দেরকে রেকর্ডে (on record) আনার বিধান রয়েছে। এই পুরো substitution process–কেই আমাদের দেশে কায়েম মোকাম বলা হয়, যা মূলত “bringing legal representatives on record”–এর সমার্থক।

কায়েম মোকামের ভিত্তি হলো “survival of cause of action” নীতি, অর্থাৎ মামলার যে cause of action রয়েছে তা যদি ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে বিলুপ্ত না হয়ে তার সম্পত্তি বা অধিকার-দায় (estate)–এর মাধ্যমে অব্যাহত থাকে, তাহলে সেই ক্ষেত্রে কায়েম মোকাম অপরিহার্য। CPC–এর Section 2(11) অনুযায়ী, “legal representative” বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি আইনগতভাবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বা স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে কেবল উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ওয়ারিশই নয়, বরং যে কেউ যিনি deceased person–এর estate পরিচালনা বা প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনিও এই সংজ্ঞার মধ্যে পড়তে পারেন। তাই আদালত কেবল নামের তালিকা গ্রহণ করে না; বরং প্রয়োজনে একটি limited inquiry করে নির্ধারণ করে কে প্রকৃতপক্ষে সঠিক প্রতিনিধি।

আইন অনুযায়ী, কোনো পক্ষ মারা গেলে তার legal representatives–দেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে আবেদন (application for substitution) করতে হয়। Limitation Act অনুযায়ী এই সময়সীমা সাধারণত মৃত্যুর তারিখ থেকে ৯০ দিন। যদি এই সময়ের মধ্যে কায়েম মোকামের আবেদন করা না হয়, তাহলে Order XXII Rule 3(2) এবং Rule 4(3) অনুসারে মামলা “so far as the deceased party is concerned” abate হয়ে যায়। অর্থাৎ, সেই পক্ষের ক্ষেত্রে মামলা অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং আদালত আর মূল বিষয়ের (merits) উপর বিচার করতে পারে না। এই abatement একটি স্বয়ংক্রিয় ফলাফল (automatic consequence), যা আলাদা কোনো আদেশ ছাড়াই কার্যকর হয়।

তবে আইন এখানে একটি প্রতিকারও (remedy) প্রদান করেছে। Order XXII Rule 9 অনুযায়ী, “setting aside abatement”–এর জন্য আবেদন করা যায়, যদি আবেদনকারী “sufficient cause” দেখাতে পারেন যে কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে আদালত তার বিচারিক বিবেচনা (judicial discretion) প্রয়োগ করে এবং যদি সন্তুষ্ট হয় যে বিলম্বটি অনিচ্ছাকৃত ও যুক্তিসঙ্গত কারণে ঘটেছে, তাহলে abatement বাতিল করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত (revive) করতে পারে। এ ক্ষেত্রে Limitation Act–এর Section 5–ও প্রযোজ্য হতে পারে, যেখানে delay condonation–এর সুযোগ রয়েছে।

বিচারব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—“procedural law is the handmaid of justice and not its mistress।” অর্থাৎ, প্রক্রিয়াগত আইন এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয় যাতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়। উদাহরণস্বরূপ, Perumon Bhagvathy Devaswom v. Bhargavi Amma (2008) 8 SCC 321 মামলায় আদালত বলেছেন যে, যথার্থ কারণ থাকলে substitution–এ বিলম্বকে নমনীয়ভাবে (liberally) বিবেচনা করা উচিত, যাতে substantive justice বিঘ্নিত না হয়। একইভাবে, Union of India v. Ram Charan (AIR 1964 SC 215) মামলায় বলা হয়েছে যে, limitation আইন কঠোরভাবে প্রয়োগযোগ্য হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে “sufficient cause” নির্ধারণ করতে হবে।

কায়েম মোকামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব দিক হলো—যদি কোনো party মারা যাওয়ার পর তাকে যথাসময়ে substitute করা না হয়, তাহলে মামলার একটি অংশ বা পুরো মামলাই abate হয়ে যেতে পারে, নির্ভর করে সেই party “necessary party” না “proper party” ছিল তার উপর। যদি মৃত ব্যক্তি indispensable বা necessary party হন, তাহলে পুরো suit–ই ব্যর্থ হতে পারে। আবার, সব cause of action survive করে না; কিছু বিষয় যেমন purely personal claims (উদাহরণ: defamation)–এ “actio personalis moritur cum persona” নীতি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে অধিকাংশ দেওয়ানি বিরোধ—বিশেষ করে সম্পত্তি, চুক্তি, অর্থ আদায়—এসব ক্ষেত্রে cause of action survive করে এবং সেখানে কায়েম মোকাম অপরিহার্য।

প্র্যাকটিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন আইনজীবীর জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি যে তিনি তার ক্লায়েন্টের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকবেন এবং কোনো পক্ষ মারা গেলে দ্রুত কায়েম মোকামের আবেদন করবেন। বিলম্ব হলে সঙ্গে সঙ্গে “application for condonation of delay” এবং “setting aside abatement” করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব বা যোগাযোগের ঘাটতির কারণে বিলম্ব ঘটে, এবং আদালত এসব বিষয়কে bona fide হলে “sufficient cause” হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, কায়েম মোকাম হলো দেওয়ানি বিচারব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান, যা ensures continuity of litigation এবং মৃত ব্যক্তির অধিকার ও দায়কে তার আইনগত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বহাল রাখে। Order XXII CPC–এর বিধানসমূহ এই প্রক্রিয়াকে একটি সুসংগঠিত কাঠামো দিয়েছে, যেখানে একদিকে সময়সীমার মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ খোলা রাখা হয়েছে। তাই কায়েম মোকাম শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি মৌলিক উপায়।

Post a Comment

0 Comments