সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ১৪৫ ধারা, Quasi Civil Jurisdiction, দখল, স্থাবর সম্পত্তি, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা শীর্ষক প্রশ্নাবলী

#Law #BangladeshLaw #CrPC #CrPC1898 #CodeOfCriminalProcedure #CriminalProcedure #Section145 #Section146 #Section147 #Section148 #QuasiCivil #QuasiCivilJurisdiction #CivilNature #Possession #Title #Ownership #PropertyLaw #LandLaw #LandDispute #PropertyDispute #DisputedProperty #ImmovableProperty #LandPossession #ActualPossession #PossessoryRights #ExecutiveMagistrate #DistrictMagistrate #Magistrate #MagisterialPower #PublicOrder #BreachOfPeace #PeaceKeeping #PreventiveJustice #PreventiveLaw #PreventiveAction #Injunction #RestorationOfPossession #Eviction #IllegalEviction #WrongfulDispossession #PoliceReport #LegalRemedy #CivilRemedy #TemporaryRelief #SummaryProceeding #DueProcess #RuleOfLaw #Justice #AccessToJustice #LegalRights #Constitution #Judiciary #JudicialSystem #CourtProcedure #CivilCourt #ExecutiveCourt #LegalPrinciples #CaseLaw #Precedent #SupremeCourt #LegalInterpretation #LegalEducation #LawStudent #BarCouncil #BarExam #Advocate #LegalPractice #Litigation #LegalResearch #BangladeshBar #LegalWriting #LawNotes #LawExam #Judgment #Evidence #Witness #LegalAwareness #LegalKnowledge #LegalStudies #LegalAnalysis #PropertyRights #LandOwnership #LandManagement #PublicPeace #ConflictResolution #DisputeResolution #StatutoryLaw #ProceduralLaw #SubstantiveLaw #Jurisdiction #LegalDoctrine #LegalScholar #LegalUpdate #BangladeshJudiciary #ExecutiveAuthority #CourtOrder #Restoration #LawAndOrder #LegalCommunity #BangladeshLegalSystem #Advocacy #JusticeForAll #LegalProfession


প্রশ্নঃ ক) প্রায় (Quasi) দেওয়ানি এখতিয়ার বলতে কী বুঝেন? জরুরি উৎপাত কিংবা আসন্ন বিপদের ক্ষেত্রে একজন ম্যাজিস্ট্রেট কি স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ প্রদান করতে পারেন? যদি পারেন, কখন এবং কীভাবে?

খ) "ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ১৪৫ ধারার কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট স্বত্বের প্রশ্ন নয়, কেবল সম্পত্তির দখলের বিষয় বিবেচনা করেন"—ব্যাখ্যা করুন।

প্রায় (Quasi) দেওয়ানি এখতিয়ার

সাধারণভাবে দেওয়ানি আদালত সম্পত্তির মালিকানা, দখল, স্বত্ব ও অন্যান্য দেওয়ানি অধিকার সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে জনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার স্বার্থে ফৌজদারি আদালতকে এমন কিছু ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে দেওয়ানি প্রকৃতির হলেও ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রয়োগ করা হয়। এ ধরনের ক্ষমতাকেই প্রায় (Quasi) দেওয়ানি এখতিয়ার বলা হয়।

স্থাবর সম্পত্তি, যেমন জমি, ঘরবাড়ি, জলাশয় বা অন্যান্য অস্থাবর নয় এমন সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ফলে অনেক সময় শান্তিভঙ্গ, সংঘর্ষ বা জননিরাপত্তার অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ১৪৫ থেকে ১৪৮ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর ১৪৫ ধারার কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। যদিও এই কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, তবুও এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিচার নয়; বরং সম্পত্তির দখল নিয়ে উদ্ভূত বিরোধের সাময়িক প্রতিকার প্রদান করে জনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য। এজন্য ১৪৫ ধারার কার্যক্রমকে Quasi Civil Jurisdiction বা প্রায় দেওয়ানি এখতিয়ার বলা হয়।

জরুরি উৎপাত কিংবা আসন্ন বিপদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ

হ্যাঁ, জরুরি পরিস্থিতি বা শান্তিভঙ্গের আসন্ন আশঙ্কা দেখা দিলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ প্রদান করতে পারেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ রিপোর্ট অথবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে অবগত হয়ে সন্তুষ্ট হন যে, তাঁর স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে কোনো জমি, ভবন, জলাশয় বা এর ব্যবহার সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তিভঙ্গের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তিনি লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হয়ে তাঁদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের নির্দেশ দেবেন। এই আদেশ সমন জারির ন্যায় প্রচার করা হয়।

এরপর ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষগণের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপকরণ বিবেচনা করে কেবল প্রকৃত দখল কার কাছে ছিল তা নির্ধারণ করবেন। তিনি কোনো পক্ষের মালিকানা বা স্বত্বের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেবেন না।

আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর প্রাথমিক আদেশ জারির পূর্ববর্তী দুই মাসের মধ্যে কোনো পক্ষকে বলপূর্বক বা বেআইনিভাবে দখলচ্যুত করা হয়েছে, তবে সেই পক্ষকে আইনগতভাবে উক্ত তারিখে দখলকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

এ অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেট—

  • বেআইনিভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তিকে পুনরায় দখলে পুনর্বহাল করতে পারেন;
  • বৈধ আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত তার দখলে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দিতে পারেন; এবং
  • শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করতে পারেন।

তবে উল্লেখযোগ্য যে, ১৪৫ ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ সাময়িক (Temporary) প্রকৃতির। সম্পত্তির চূড়ান্ত স্বত্ব বা মালিকানা নির্ধারণের এখতিয়ার একমাত্র দেওয়ানি আদালতের।

নজির (Case Law):

  • Ram Sumer Puri Mahant v. State of U.P., AIR 1985 SC 472 মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, যখন একই সম্পত্তি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব বা দখল সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকে এবং যথাযথ প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হয়, তখন সাধারণত ১৪৫ ধারার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সমীচীন নয়।
  • Jhummamal @ Devandas v. State of Madhya Pradesh, (1988) 4 SCC 452 মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, ১৪৫ ধারার উদ্দেশ্য সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ নয়; বরং শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ এবং বিদ্যমান দখল সংরক্ষণ করা।

খ) “ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ১৪৫ ধারার কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট স্বত্বের প্রশ্ন নয়, কেবল সম্পত্তির দখলের বিষয় বিবেচনা করেন”—ব্যাখ্যা করুন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৫ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো জমি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ফলে যাতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করা। এ কারণে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব হলো বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির প্রকৃত দখল কার নিকট ছিল, তা নির্ধারণ করা; সম্পত্তির বৈধ মালিক বা স্বত্বাধিকারী কে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়।

১৪৫ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করা যায় যখন কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখলচ্যুত হয়েছেন অথবা দখল নিয়ে এমন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট এ ধরনের মামলায়—

  • পক্ষগণের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন;
  • প্রয়োজনবোধে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ করেন;
  • প্রাথমিক আদেশের পূর্ববর্তী দুই মাসের মধ্যে কে প্রকৃত দখলে ছিলেন, তা নির্ধারণ করেন।

যদি দেখা যায় যে, কোনো পক্ষকে ওই সময়ের মধ্যে বলপূর্বক বা বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে আইনের দৃষ্টিতে সেই পক্ষকেই দখলকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রয়োজনে তাকে পুনরায় দখলে পুনর্বহাল করা হবে।

কিন্তু কোনো পক্ষ যদি দাবি করে যে, সে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বা স্বত্বাধিকারী, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করবেন না। কারণ মালিকানা, স্বত্ব, দলিলের বৈধতা, উত্তরাধিকার বা শিরোনাম (Title) নির্ধারণের এখতিয়ার একমাত্র দেওয়ানি আদালতের।

অতএব, ১৪৫ ধারার কার্যক্রমের পরিধি সীমাবদ্ধ কেবল Possession (দখল) নির্ধারণে; Title (স্বত্ব বা মালিকানা) নির্ধারণে নয়। এ কারণেই ১৪৫ ধারার কার্যক্রমকে Quasi Civil Proceeding বলা হয়।

প্রাসঙ্গিক নজির:

  • Bhinka v. Charan Singh, AIR 1959 SC 960 মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেন যে, ১৪৫ ধারার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুসন্ধানের বিষয় কেবল বাস্তব দখল (Actual Possession); মালিকানা বা স্বত্ব নয়।
  • Ram Sumer Puri Mahant v. State of U.P. মামলাতেও আদালত পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১৪৫ ধারার কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ করা; মালিকানার প্রশ্ন নিষ্পত্তি করা নয়।

উপসংহার

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট কেবল বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির প্রকৃত দখল নির্ধারণ করে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সম্পত্তির স্বত্ব, মালিকানা বা চূড়ান্ত অধিকার নির্ধারণের এখতিয়ার তাঁর নেই; সে বিষয়ে প্রতিকার চাইতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।


Post a Comment

0 Comments