- Hearsay evidence এবং মৃত্যুকালীন জবানবন্দির (Dying Declaration) নির্ভরযোগ্যতা কতটুকু?
- নিহতের নিকটাত্মীয় বা 'স্বার্থসংশ্লিষ্ট' সাক্ষীদের (Partisan witnesses) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা প্রদান করা আইনগতভাবে সঠিক কিনা?
- দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারিক বিবেচনার (Sentencing Discretion) মূলনীতিগুলো কী?
- Hearsay evidence এবং মৃত্যুকালীন জবানবন্দির (Dying Declaration) নির্ভরযোগ্যতা কতটুকু?
- নিহতের নিকটাত্মীয় বা 'স্বার্থসংশ্লিষ্ট' সাক্ষীদের (Partisan witnesses) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা প্রদান করা আইনগতভাবে সঠিক কিনা?
- দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারিক বিবেচনার (Sentencing Discretion) মূলনীতিগুলো কী?
ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও দণ্ড নির্ধারণ
Hearsay Evidence, Dying Declaration,
Partisan Witnesses এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার Sentencing Discretion
ভূমিকা
ফৌজদারি
মামলায় আদালতের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ
প্রমাণিত হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করা। এ ক্ষেত্রে hearsay evidence-এর সাধারণ অগ্রহণযোগ্যতা,
Evidence Act, 1872-এর ৩২(১) ধারায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ব্যতিক্রম, নিকটাত্মীয় বা
স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাক্ষীর সাক্ষ্য মূল্যায়ন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় উপযুক্ত দণ্ড বেছে
নেওয়ার নীতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখলেও, বাস্তবে আদালতকে
সাক্ষ্যের সামগ্রিক সামঞ্জস্য, নির্ভরযোগ্যতা এবং মামলার পরিস্থিতি একসঙ্গে বিচার করতে
হয়।
পরশ্রুত বা শ্রুত সাক্ষ্য (Hearsay evidence) কি ও ব্যতিক্রম
Hearsay
evidence বা পরশ্রুত সাক্ষ্য হলো এমন বক্তব্য, যেখানে সাক্ষী নিজে সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রত্যক্ষ
করেননি; বরং অন্য কারও কাছ থেকে শুনে আদালতে সেই কথাটি বলেন, এবং বক্তব্যটি মূল ঘটনার
সত্যতা প্রমাণের জন্য উপস্থাপন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, “আমি ঘটনাটি দেখিনি, কিন্তু
X আমাকে বলেছেন যে অভিযুক্তই আঘাত করেছেন”-যদি X-এর বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে
এটি বলা হয়, তবে তা সাধারণত hearsay।
Evidence
Act, 1872-এর ৬০ ধারায় মৌখিক সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ হতে হবে-এই নীতি নির্ধারিত হয়েছে। তাই
সাধারণ নিয়মে hearsay evidence গ্রহণযোগ্য নয়। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো মূল বক্তাকে
জেরা করার সুযোগ না থাকা, বক্তব্যের উৎস ও নির্ভুলতা পরীক্ষা করতে অসুবিধা এবং ভুল
শোনা, ভুল বোঝা বা বিকৃতির ঝুঁকি।
তবে
“hearsay” হিসেবে চিহ্নিত হলেই প্রতিটি বক্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্রহণযোগ্য-এমন নয়।
আইন স্বীকৃত ব্যতিক্রম থাকতে পারে; যেমন Evidence Act-এর ৩২ ধারার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে
মৃত ব্যক্তির বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কোনো বক্তব্য কোন উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে,
সেটি hearsay কি না, এবং কোনো বিধিবদ্ধ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য কি না-তা আলাদাভাবে নির্ধারণ
করতে হবে।
মৃত্যুকালীন জবানবন্দি
(Dying Declaration): গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা
Evidence
Act, 1872-এর ৩২(১) ধারা অনুসারে, কোনো মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা যে লেনদেনের পরিস্থিতিতে
তাঁর মৃত্যু ঘটেছে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যখন তাঁর মৃত্যুর কারণ
বিচার্য প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এই বক্তব্য লিখিত বা মৌখিক হতে পারে। বক্তব্যটি দেওয়ার
পর বক্তার মৃত্যু হওয়া dying declaration হিসেবে বিবেচনার মৌলিক শর্ত।
মৃত্যুকালীন
জবানবন্দি শপথের অধীনে দেওয়া হয় না এবং সাধারণত বক্তব্যদাতাকে জেরা করার সুযোগ থাকে
না। তাই আদালতকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে হয়- বক্তা বক্তব্য দেওয়ার মতো শারীরিক
ও মানসিক অবস্থায় ছিলেন কি না; বক্তব্য স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেওয়া হয়েছিল
কি না; বক্তব্য লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য কি না; বক্তাকে শেখানো, প্ররোচিত
বা প্রভাবিত করা হয়েছিল কি না; এবং বক্তব্যটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, প্রত্যক্ষদর্শী,
পারিপার্শ্বিক ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
ম্যাজিস্ট্রেটের
মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর আকারে এবং বক্তার নিজের ভাষায় রেকর্ড করা হলে তা নির্ভরযোগ্যতা
যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে; তবে শুধু ম্যাজিস্ট্রেট রেকর্ড করেননি বলেই বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য
হয়ে যায় না। জরুরি পরিস্থিতিতে অন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বা তদন্তকারী কর্মকর্তার রেকর্ড
করা বক্তব্যও আইনগতভাবে বিবেচিত হতে পারে, যদি আইনগত শর্ত পূরণ হয় এবং আদালত তার সত্যতা
সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন।
মূলনীতি
হলো: মৃত্যুকালীন জবানবন্দি সত্য, স্বেচ্ছাপ্রদত্ত ও নির্ভরযোগ্য বলে আদালত নিশ্চিত
হলে তা একাই দণ্ডাদেশের ভিত্তি হতে পারে; কিন্তু বক্তব্যে সন্দেহ, অসামঞ্জস্য বা প্রভাবিত
হওয়ার যুক্তিসংগত আশঙ্কা থাকলে কেবল তার ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। corroboration বা
সমর্থনকারী প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা প্রতিটি মামলার তথ্য ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
নিকটাত্মীয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট
সাক্ষী (Partisan/Interested Witnesses)
নিহতের
স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন বা অন্য নিকটাত্মীয় সাক্ষ্য দিলেই তাঁদের সাক্ষ্য অবিশ্বাস্য
হয়ে যায় না। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার স্বাভাবিক কারণ থাকলে নিকটাত্মীয়ই অনেক সময় সবচেয়ে
স্বাভাবিক সাক্ষী। “Related witness” এবং “interested witness” এক কথা নয়। স্বার্থসংশ্লিষ্ট
সাক্ষী বলতে সাধারণত এমন সাক্ষীকে বোঝায়, যার অভিযুক্তকে মিথ্যাভাবে জড়ানোর বাস্তব
উদ্দেশ্য বা স্বার্থ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আইনগত
অবস্থান হলো-এ ধরনের সাক্ষ্যকে সতর্কতার সঙ্গে, সমালোচনামূলকভাবে যাচাই করতে হবে; কিন্তু
কেবল আত্মীয়তা বা পক্ষপাতের অভিযোগের কারণে তা পুরোপুরি বাতিল করা যাবে না। আদালত দেখবেন
সাক্ষীর উপস্থিতি স্বাভাবিক ও সম্ভাব্য কি না, বক্তব্যের মূল অংশে সামঞ্জস্য আছে কি
না, জেরায় গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি বের হয়েছে কি না, চিকিৎসা বা বস্তুগত প্রমাণের সঙ্গে
বক্তব্য মেলে কি না, এবং মিথ্যা ফাঁসানোর কোনো বাস্তব কারণ আছে কি না।
স্বাধীন
সাক্ষী পাওয়া যায়নি-এটিও একা দণ্ডাদেশ বাতিলের কারণ নয়। তবে সাক্ষীর একমাত্র বক্তব্য
যদি গুরুতর অসঙ্গতিপূর্ণ হয় বা অন্য প্রমাণের সঙ্গে সংঘর্ষে আসে, তাহলে আদালতকে তা
আরও সতর্কভাবে বিচার করতে হবে। corroboration সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক আইনগত শর্ত নয়;
এটি অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতার নিয়ম।
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায়
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন: Sentencing Discretion
দণ্ডবিধি,
১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান
রয়েছে। কোন দণ্ড উপযুক্ত হবে, তা নির্ধারণে আদালতের বিবেচনাধিকার আছে; কিন্তু এই বিবেচনাধিকার
স্বেচ্ছাচারী নয়। তা মামলার প্রমাণ, অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্তের ভূমিকা এবং দণ্ড নির্ধারণে
প্রাসঙ্গিক গুরুতরকারী ও লঘুকারী পরিস্থিতির ভারসাম্য বিবেচনা করে প্রয়োগ করতে হয়।
গুরুতরকারী (Aggravating) পরিস্থিতির উদাহরণ:
- অপরাধের পরিকল্পিত, নৃশংস বা বিশেষভাবে নিষ্ঠুর প্রকৃতি;
- একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা বা একাধিক প্রাণহানির ঘটনা;
- বিশ্বাসভঙ্গ, অসহায় ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করা বা অপরাধের বিশেষ গুরুতর প্রেক্ষাপট;
- অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকা, উদ্দেশ্য এবং অপরাধ সংঘটনের পদ্ধতি-যতটুকু প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত।
লঘুকারী (Mitigating) পরিস্থিতির উদাহরণ:
- অভিযুক্তের বয়স, মানসিক ও শারীরিক অবস্থা-যেখানে প্রমাণিত ও আইনত প্রাসঙ্গিক;
- অপরাধে ভূমিকার মাত্রা এবং পূর্বপরিকল্পনার প্রমাণ আছে কি না;
- ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্ররোচনা বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি;
- অভিযুক্তের পূর্ব অপরাধের ইতিহাস, পুনর্বাসনের সম্ভাবনা এবং দণ্ডের সামগ্রিক আনুপাতিকতা।
কোনো
একটি গুরুতরকারী বিষয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করে না। আদালতকে প্রাসঙ্গিক
লঘুকারী বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে এবং কেন নির্দিষ্ট দণ্ড বেছে নেওয়া হলো, তা রায়ে যুক্তিসহ
প্রকাশ করতে হবে। একইভাবে, অপরাধ গুরুতর-এই সাধারণ বক্তব্য একাই দণ্ড নির্ধারণের পূর্ণ
যুক্তি নয়। মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে আইনসম্মত বিচারিক পর্যালোচনা ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া
বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
প্রাসঙ্গিক বিচারিক নজির
ক. Md. Humayun
Kabir v. The State, 20 SCOB [2025] AD
বাংলাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের Appellate Division-এর 20 SCOB [2025] AD-তে প্রকাশিত এই মামলাটি আলোচ্য
তিনটি বিষয়-hearsay evidence, dying declaration, interested/partisan witnesses এবং
দণ্ড নির্ধারণ-একসঙ্গে বিশ্লেষণের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। মামলায় নিহত ব্যক্তি
হাসপাতালে নেওয়ার পথে কয়েকজনকে ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। ট্রায়াল কোর্ট মৃত্যুদণ্ড দিলেও
হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্স গ্রহণ না করে সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর
করে; আপিল বিভাগে আপিল খারিজ হয়।
দণ্ড
নির্ধারণ বিষয়ে আপিল বিভাগ গুরুতরকারী ও লঘুকারী পরিস্থিতি বিবেচনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা
করে এবং বলে যে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের মধ্যে বেছে নেওয়ার বিচারিক বিবেচনা
ফৌজদারি বিচারের মৌলিক নীতি অনুসারে প্রয়োগ করতে হবে। এই রায়টি দণ্ড নির্ধারণের যুক্তি
বোঝার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
সরকারি উৎস:
https://www.supremecourt.gov.bd/web/index.php/articles/contents/resources/scdoc?div_id=1&issue=20&menu=00&page=bulletin/bulletin_list_AD_20.php
খ. Sk. Shamsur
Rahman @ Shamsu v. The State, 42 DLR (AD) 200
এই নজিরে
মৃত্যুকালীন জবানবন্দিকে substantive evidence হিসেবে বিবেচনা করলেও, জেরা করার সুযোগ
না থাকার কারণে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা বলা হয়েছে। বক্তব্যের সত্যতা,
তা রেকর্ড করার পরিস্থিতি এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি পরবর্তী অনূদিত রায়ে এই নীতির উদ্ধৃতি
রয়েছে:
https://supremecourt.gov.bd/translation/process.php?file=2996271_Death_Reference_1No.03of2019.pdf
গ. Nawabul Alam and
others v. The State, 15 BLD (AD) 61
এই নজিরে
বলা হয়েছে, interested, inter-related ও partisan witnesses-এর সাক্ষ্য ঘনিষ্ঠ ও সমালোচনামূলকভাবে
যাচাই করতে হবে। তবে কেবল তাঁরা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে তাঁদের সাক্ষ্য সরাসরি বাতিল
করা যাবে না; একইভাবে সমালোচনামূলক মূল্যায়ন ছাড়া তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণও করা উচিত নয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের 6 SCOB [2016] HCD বুলেটিনে এই নীতির
আলোচনা রয়েছে:
https://www.supremecourt.gov.bd/resources/bulletin/6_SCOB_2016.pdf
ঘ. Md. Dawlat Fakir
and others v. The State
বাংলাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, মৃত্যুকালীন জবানবন্দি সত্য, স্বেচ্ছাপ্রদত্ত
এবং বাইরের প্রভাবমুক্ত বলে আদালত সন্তুষ্ট হলে, আইনের কোনো কঠোর নিয়ম হিসেবে অতিরিক্ত
corroboration সব ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়। তবে নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে আদালতকে
সতর্ক থাকতে হবে।
সরকারি উৎসের সারাংশ:
https://www.supremecourt.gov.bd/web/index.php/web/resources/resources/rules/web/indexn.php?div_id=1&menu=00&page=judgments.php&start=150
ঙ. Criminal Appeal
No. 81 of 2016, Mufti Abdul Hannan Munshi alias Abul Kalam and another v. The
State
আপিল
বিভাগের এই রায়ে hearsay-এর সাধারণ আপত্তি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের গুরুত্ব এবং প্রমাণের
গ্রহণযোগ্যতা বিচার করার নীতিগত আলোচনা রয়েছে। এটি দেখায় যে আদালতকে বক্তব্যের উৎস,
প্রমাণের প্রকৃতি এবং মামলার সামগ্রিক প্রমাণমূল্য পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।
সরকারি পূর্ণাঙ্গ রায়:
https://www.supremecourt.gov.bd/resources/documents/1047750_Criminal_Appeal_No.81_of_2016.pdf
ব্যবহারিক বিশ্লেষণ: আদালত কীভাবে প্রমাণ মূল্যায়ন করবে?
- প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে সাক্ষ্যটি প্রত্যক্ষ, পরশ্রুত, নাকি কোনো বিধিবদ্ধ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত।
- মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ক্ষেত্রে বক্তার সক্ষমতা, স্বেচ্ছাপ্রদত্ততা, বক্তব্যের ধারাবাহিকতা, রেকর্ডিংয়ের পরিস্থিতি ও সমর্থনকারী প্রমাণ যাচাই করতে হবে।
- নিকটাত্মীয় সাক্ষীর ক্ষেত্রে আত্মীয়তা নয়, বরং সাক্ষ্য দেওয়ার স্বাভাবিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, জেরায় প্রকাশিত অসঙ্গতি ও মিথ্যা ফাঁসানোর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য পরীক্ষা করতে হবে।
- দণ্ড নির্ধারণের সময় অপরাধের গুরুতরকারী ও লঘুকারী উভয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে কারণযুক্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
- প্রতিটি মামলার সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিতে হবে; নজিরের নীতি প্রয়োগের আগে মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্য ও রায়ের পূর্ণাঙ্গ ভাষা যাচাই করা উচিত।
উপসংহার
Hearsay
evidence সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়, তবে আইনস্বীকৃত ব্যতিক্রম রয়েছে। মৃত্যুকালীন জবানবন্দি
Evidence Act-এর ৩২(১) ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে এবং তা নির্ভরযোগ্য হলে একাই দণ্ডাদেশের
ভিত্তি হতে পারে; তবে আদালতকে সতর্কভাবে সত্যতা যাচাই করতে হয়। নিহতের নিকটাত্মীয় বা
স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাক্ষীর সাক্ষ্য কেবল সম্পর্কের কারণে বাতিল হয় না, আবার অন্ধভাবে
গ্রহণও করা যায় না। অন্যদিকে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের মধ্যে
সিদ্ধান্ত নিতে আদালতকে গুরুতরকারী ও লঘুকারী পরিস্থিতি ভারসাম্যপূর্ণভাবে বিচার করতে
হয়। এই নীতিগুলোর সম্মিলিত উদ্দেশ্য হলো প্রমাণভিত্তিক, ন্যায়সংগত এবং কারণসমর্থিত
বিচার নিশ্চিত করা।
সতর্কীকরণ
এই লেখা
শিক্ষামূলক ও আইনবিষয়ক সহায়ক উপকরণ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি নির্দিষ্ট মামলার
আইনি মতামত নয়।
উৎস
- Bangladesh Supreme Court Online Bulletin - Md. Humayun Kabir v. The State, 20 SCOB [2025] AD
- https://www.supremecourt.gov.bd/web/index.php/articles/contents/resources/scdoc?div_id=1&issue=20&menu=00&page=bulletin/bulletin_list_AD_20.php
- Bangladesh Supreme Court -Death Reference No. 03 of 2019 (translated judgment; dying declaration principles)
- https://supremecourt.gov.bd/translation/process.php?file=2996271_Death_Reference_1No.03of2019.pdf
- Bangladesh Supreme Court -6 SCOB [2016] HCD (interested/partisan witness principles)
- https://www.supremecourt.gov.bd/resources/bulletin/6_SCOB_2016.pdf
- Bangladesh Supreme Court - Criminal Appeal No. 81 of 2016
- https://www.supremecourt.gov.bd/resources/documents/1047750_Criminal_Appeal_No.81_of_2016.pdf
- Bangladesh Supreme Court -Criminal Appeal Nos. 45 of 2012, 48 of 2015 and Crl. P. No. 366 of 2016 (dying declaration)
- https://supremecourt.gov.bd/translation/process.php?file=1511622_Crl.A.Nos.45_of_2012%2C48_of_2015_and_Crl.P.No.366_of_2016.pdf

0 Comments