"লিভ টু আপিল" (Leave to Appeal) সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ Leave to Appeal বনাম Appeal as of Right
Leave to Appeal হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া, যেখানে একজন পক্ষভুক্ত ব্যক্তি (যেমন, আসামি বা বাদী) উচ্চতর আদালতের অনুমতি চায় নিম্ন আদালতের কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার আগে।বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায়, বিশেষ করে হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে আপিল বিভাগে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বাধ্যতামূলক ধাপ, যদি আইন অনুযায়ী সরাসরি আপিল করার অধিকার না থাকে।
১. "লিভ টু আপিল" (Leave to Appeal)
Leave to Appeal is the permission sought from a higher court before filing a regular appeal, in cases where appeal is not available as a matter of right.(লিভ টু আপিল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উচ্চতর আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করে—আপিল করার জন্য, কারণ সরাসরি আপিল করার আইনি অধিকার তার নেই।)
২. বাংলাদেশের আইনে প্রাসঙ্গিক ধারা ও অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশ সংবিধানে ১০৩ অনুচ্ছেদে 'আপীল বিভাগের এখতিয়ার' নিয়ে বলা আছে যে,
"(১) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানীর ও তাহা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের থাকিবে।
(২) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগের নিকট সেই ক্ষেত্রে অধিকারবলে আপীল করা যাইবে, যে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ-
(ক) এই মর্মে সার্টিফিকেট দান করিবেন যে, মামলাটির সহিত এই সংবিধান-ব্যাখ্যার বিষয়ে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত রহিয়াছে; অথবা
[(খ) কোন মৃত্যুদণ্ড বহাল করিয়াছেন কিংবা কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিয়াছেন ; অথবা]
(গ) উক্ত বিভাগের অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তিকে দণ্ডদান করিয়াছেন; এবং সংসদে আইন-দ্বারা যেরূপ বিধান করা হইবে, সেইরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রে।
(৩) হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে যে মামলায় এই অনুচ্ছেদের (২) দফা প্রযোজ্য নহে, কেবল আপীল বিভাগ আপীলের অনুমতিদান করিলে সেই মামলায় আপীল চলিবে।
(৪) সংসদ আইনের দ্বারা ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ হাইকোর্ট বিভাগের প্রসঙ্গে যেরূপ প্রযোজ্য, অন্য কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রেও তাহা সেইরূপ প্রযোজ্য হইবে।"
সুতরাং বাংলাদেশ সংবিধান– অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(a) এর বিধানানুযায়ী হাইকোর্ট ডিভিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করতে হলে পূর্বে "Leave to Appeal" নিতে হয়, যদি আইন অনুযায়ী সরাসরি আপিলের অধিকার না থাকে।
সিভিল প্রসিডিউর কোড, ১৯০৮, এবং ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড, ১৮৯৮– বিভিন্ন জায়গায় Leave to Appeal-এর উল্লেখ রয়েছে।
মূলত প্রযোজ্য:
- যখন আপিল করা হয় Second Appeal (ধারা ১০০) বা
- Special Appeal– যেমন হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যেতে চাইলে।
গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ:
ধারা 109 (Section 109) – CPC
- হাইকোর্ট থেকে আপিল বিভাগের (Supreme Court) সামনে আপিল করতে হলে, কখনও কখনও Leave to Appeal লাগতে পারে।
ব্যাখ্যা:
যদি নিম্ন আদালতের বা হাইকোর্টের রায় final order হয়, এবংমামলায় substantial question of law থাকে, তাহলে হাইকোর্ট থেকে Leave নিয়ে আপিল বিভাগে যাওয়া যায়।
Section 109(c): "…if the High Court certifies under Article 103 of the Constitution that the case is a fit one for appeal to the Appellate Division." যেমন-একটি দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্ট Division Bench একটি আদেশ দিয়েছে। আপনি সরাসরি আপিল করতে পারবেন না যদি না হাইকোর্ট সেটা “fit case for appeal” ঘোষণা করে। তখন Leave to Appeal দরকার হয়।
২. ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড, ১৮৯৮ (CrPC) – Leave to Appeal মূলত প্রযোজ্য: ফৌজদারি মামলায় সরকার বা ব্যক্তিপক্ষ যদি নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হয়, এবং সরাসরি আপিলের অধিকার না থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ:
Section 417(3) – CrPC
If the complainant wants to appeal against an acquittal, he/she must seek leave of the High Court Division.
(একটি ফৌজদারি মামলায় যদি বিচারক আসামিকে খালাস দেন, এবং বাদী (complainant) সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তবে তাকে Leave to Appeal নিতে হবে হাইকোর্ট ডিভিশনের কাছ থেকে।)
Section 439(5) – CrPC
Revision proceedings cannot be converted into appeal unless leave is granted.
📌 ব্যাখ্যা:
রিভিশন আবেদন করে সরাসরি আপিল করা যাবে না, যদি না Leave পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে
- একটি মামলায় আসামিকে আদালত খালাস দিয়েছে।
- বাদী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে চায়।
- সরাসরি আপিল করতে পারবে না, বরং CrPC ধারা 417(3) অনুযায়ী Leave to Appeal নিতে হবে।
৩. Leave to Appeal কখন প্রয়োজন?
- যখন হাইকোর্ট ডিভিশনের কোনো রায় বা আদেশ চূড়ান্ত হয়, এবং
- সরাসরি আপিলের আইনি অধিকার নেই (i.e., no appeal as of right)।
- তখন আপিল বিভাগে যেতে হলে "Leave" নিতে হয়।
৪. Leave to Appeal-এর বিবেচ্য বিষয়সমূহ
আদালত যখন Leave মঞ্জুর করবে কি না সেটা বিবেচনা করার সময়, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দেখে:
- গুরুতর আইনগত প্রশ্ন (Substantial question of law) রয়েছে কি?
- জনস্বার্থ বা সাংবিধানিক গুরুত্ব আছে কি?
- ন্যায়বিচারের চরম ব্যত্যয় ঘটেছে কি না?
- হাইকোর্ট আইন ভুল ব্যাখ্যা করেছে কি না?
- মামলা পুনর্বিবেচনার যোগ্যতা রাখে কি না?
৫. প্রক্রিয়া (Procedure)
ধাপ ১: Leave to Appeal আবেদন দায়ের
- লিখিত আকারে আবেদন
- সংক্ষিপ্ত বিষয় বিবরণ
- হাইকোর্টের আদেশ সংযুক্ত
- ভুল বা অন্যায় দিক ব্যাখ্যা করা
ধাপ ২: Leave hearing
- আদালত আবেদনকারীর বক্তব্য শুনবে
- প্রাথমিকভাবে দেখবে মামলায় আপিলযোগ্য গুরুত্ব আছে কি না
ধাপ ৩: Leave grant বা refuse
- যদি Leave Granted হয়, তখন মূল আপিল শুরু হয়
- যদি Leave Refused হয়, তাহলে হাইকোর্টের রায়ই চূড়ান্ত হয়ে যায়
৬. Leave to Appeal-এর প্রভাব
৭. Leave to Appeal বনাম Appeal as of Right
- একটি ফৌজদারি মামলায় হাইকোর্ট একটি সাজা বহাল রেখেছে।
- আসামি মনে করে, রায়টি ভুল এবং গুরুতর আইনগত প্রশ্ন রয়েছে।
- সে সরাসরি আপিল করতে পারে না।
- তাই সে আপিল বিভাগের কাছে Leave to Appeal আবেদন করে।
মোটকথা, Leave to Appeal হলো উচ্চ আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারণ করে—কোন মামলাগুলো আপিলযোগ্য এবং বিচারযোগ্য। এটি বিচারব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয় আপিল থেকে রক্ষা করে, এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে আপিলের সুযোগ দেয়।
0 Comments